ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত এই দলটি।
বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, এই নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি এই নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত বছরের নভেম্বরে দেশে ফেরা তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬—উভয় আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সরকার গঠনের জন্য ১৫১টি আসনের প্রয়োজন হলেও বিএনপি এককভাবেই সেই সংখ্যা পার করেছে। দলের মিত্রদের আরও তিনটি আসনসহ তাদের মোট সংসদীয় শক্তি দাঁড়িয়েছে ২১২-তে।
এবারের নির্বাচনের ফলাফল দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে সংসদে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার বা বিরোধী দলে থাকলেও, এবার স্বতন্ত্রভাবে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে দলটি। এছাড়া জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।
২০০১ সালে শেষবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল বিএনপি। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং রাজপথের লড়াই শেষে এই বিজয় অর্জন করল তারা। বিশেষ করে গত ৩০ ডিসেম্বর দলের দীর্ঘকালীন নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই প্রথম নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি এবং তাদের মিত্ররা ৩টি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছেন।
চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সরকার গঠন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।