ডেস্ক নিউজ | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নামের গেজেট প্রকাশ করে। এখন শপথ গ্রহণের পর এই নতুন আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী ধরনের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য কেবল বেতনই নয়, বরং দায়িত্ব পালনের জন্য যাতায়াত, চিকিৎসা এবং আবাসনসহ দীর্ঘ এক তালিকার আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পেয়ে থাকেন।
মেম্বার অব পার্লামেন্ট অর্ডার, ১৯৭৩’ (সংশোধিত ২০১৬) অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্যের মাসিক মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা। তবে বেতনের চেয়ে ভাতার পরিমাণ অনেক ক্ষেত্রে বেশি। যাতায়াত ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে ৭০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনী এলাকা পরিচালনার জন্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পান তাঁরা। এর বাইরে অফিস খরচ, আপ্যায়ন এবং লন্ড্রি ভাতা মিলিয়ে প্রতি মাসে আরও বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ বরাদ্দ থাকে।
সংসদ সদস্যদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় সুবিধাগুলোর একটি হলো শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। প্রতিটি মেয়াদে তাঁরা কর ও ভ্যাট ছাড়াই বিলাসজাত গাড়ি বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন। এছাড়া দেশের ভেতরে বিমান, রেল বা নৌপথে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ অথবা উচ্চতর শ্রেণির ট্রাভেল পাস ব্যবহারের সুযোগ পান তাঁরা।
সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করেন। দায়িত্ব পালনকালে কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হলে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা প্রযোজ্য হয়। এছাড়া এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের জন্য বছরে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঐচ্ছিক তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে তাঁদের।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংসদ সদস্যদের মূল বেতন করযোগ্য হলেও তাঁদের প্রাপ্ত সব ধরণের ভাতা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। অর্থাৎ রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া ভাতার বিপরীতে তাঁদের কোনো কর দিতে হয় না।
নতুন সংসদের যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে এসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার হিসাব সামনে আসার পর নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিতা ও সংসদ সদস্যদের জনসেবার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।