ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দুই যুগ পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন সবার নজর পরবর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর দিকে। বিশেষ করে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন এবং মন্ত্রিসভার বিন্যাস কেমন হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, অভিজ্ঞ ও নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি নিজেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
নতুন সরকারের রাষ্ট্রপতি পদে বর্তমানে চারজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং অন্তত একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম সবথেকে বেশি আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রমতে, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।
নজরুল ইসলাম খান এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। জিয়া পরিবারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত এই নেতা অতীতে কখনো মন্ত্রী হননি, তবে কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে যে, দীর্ঘদিনের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই উচ্চাসনে বসানো হতে পারে।
অন্যদিকে, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়েও বিএনপিতে জোরালো আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং বর্তমান ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা বিবেচনায় তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখার আগ্রহ রয়েছে দলের একাংশের।
রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানও। এছাড়া শিক্ষাবিদদের মধ্য থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারীর নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকার গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে মন্ত্রিসভার একটি প্রাথমিক তালিকা বা খসড়া তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিএনপি নেতাদের মতে, এবারের মন্ত্রিসভা হবে ‘জাতীয় ঐক্যের’ প্রতিফলন। এতে যেমন অভিজ্ঞ প্রবীণ রাজনীতিকরা থাকবেন, তেমনি জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তরুণ নেতৃত্ব এবং অরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদেরও (টেকনোক্র্যাট) অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পরপরই বঙ্গভবনে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।