1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে আরও গরীব হচ্ছে মানুষ: স্বাস্থ্যসেবা কি অধিকার, না বিলাসিতা? - bdtelegraph24.com
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৯তম অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ মহিপুরে ১ কেজি ৯০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হলো ৬ হাজার ৬৫০ টাকায় ভারত ও নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: নিহত ৭০ বাংলার জমিনে কাউকে সন্ত্রাস করতে দেয়া যাবেনা- স্বাস্থ্যমন্ত্রী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা বাতিল করেনি সৌদি আরব: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাবনায় ৩৮১ বস্তা সার জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ভারতে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ২৭৫ কিমি দূরে নিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪ হরমুজ প্রণালিতে ১৯ জাহাজে ইরানের হামলা, মার্কিন ডুবোযান আটক অভয়নগরে সন্তানসহ নিখোঁজ গৃহবধূর সন্ধান মেলেনি ভাতাভোগী ও সঞ্জীবন প্রকল্পের আনসার ও ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের মাঝে ফলজ ও ঔষধি গাছের চাঁরা বিতরণ

চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে আরও গরীব হচ্ছে মানুষ: স্বাস্থ্যসেবা কি অধিকার, না বিলাসিতা?

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৯ জন খবরটি পড়েছেন

মোঃ আব্দুল আউয়াল।

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

মানুষ অসুস্থ হয়—এটি জীবনের অবধারিত সত্য। কিন্তু অসুস্থতার সঙ্গে যখন যুক্ত হয় চিকিৎসার ব্যয়ভার, তখন তা কেবল শারীরিক কষ্টেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ধীরে ধীরে রূপ নেয় অর্থনৈতিক সংকটে, সামাজিক অনিশ্চয়তায় এবং কখনো কখনো জীবনের মৌলিক নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করে তোলে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বাস্তবতা আরও নির্মম। এখানে অসুস্থতা মানেই শুধু চিকিৎসার প্রয়োজন নয়; বরং একটি পরিবারের জন্য তা হয়ে দাঁড়ায় আর্থিক বিপর্যয়ের সূচনা।

স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার—এই ধারণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে নিজেদের সম্পদ বিক্রি করে, ঋণের বোঝা কাঁধে নেয়, কিংবা জীবনের অন্য মৌলিক চাহিদাগুলো ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ফলে একটি অসুস্থতা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের একটি বড় অংশই আসে ব্যক্তিগত পকেট থেকে, যা অর্থনীতির ভাষায় “আউট-অব-পকেট এক্সপেন্ডিচার” হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই মানুষ নিজস্ব অর্থে বহন করে। এর মানে দাঁড়ায়, যখন কেউ অসুস্থ হয়, তখন তাকে নিজের সঞ্চয়, সম্পদ বা ধার-দেনার ওপর নির্ভর করতে হয়। এই ব্যয়ভার সামাল দিতে গিয়ে অনেকেই দারিদ্র্যের নিচে নেমে যায় বা আগের চেয়ে আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে।

একটি সাধারণ উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায়। একজন দিনমজুর, যার দৈনিক আয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, যদি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়, তাহলে সে কীভাবে এই অর্থ জোগাড় করবে? বাস্তবে দেখা যায়, সে হয় জমি বিক্রি করে, নয়তো উচ্চ সুদে ঋণ নেয়। চিকিৎসা শেষে হয়তো সে সুস্থ হয়ে ওঠে, কিন্তু তার আর্থিক অবস্থা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে, সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে না।

বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা তাত্ত্বিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে নামমাত্র খরচে চিকিৎসা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সেখানে চিকিৎসকের সংকট, ওষুধের অপ্রতুলতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যায়, যেখানে খরচ বহুগুণ বেশি।
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। কিন্তু এই খাতটি প্রায়ই নিয়ন্ত্রণহীন।

চিকিৎসার খরচ নির্ধারণে কোনো একক নীতি নেই, ফলে একই ধরনের চিকিৎসার জন্য একেকটি প্রতিষ্ঠানে একেক রকম খরচ দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অতিরিক্ত ওষুধ এবং দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি রাখার মতো অভিযোগও শোনা যায়। এতে রোগীর ব্যয় বেড়ে যায়, অথচ সবসময় তা প্রয়োজনীয় হয় না।

স্বাস্থ্যবিমা বা ইনস্যুরেন্স ব্যবস্থা উন্নত দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে মানুষ নিয়মিত প্রিমিয়াম দিয়ে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে, যা অসুস্থতার সময় তাদের আর্থিক সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিমার প্রচলন অত্যন্ত সীমিত। কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা দেয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য এটি এখনও একটি দুর্লভ বিষয়।

গ্রামাঞ্চলের মানুষের জন্য এই সংকট আরও তীব্র। সেখানে উন্নত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য নয়। অনেক সময় রোগীকে জেলা বা রাজধানীতে নিয়ে যেতে হয়, যা যাতায়াত খরচ, থাকার খরচ এবং চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে একটি বিশাল বোঝা তৈরি করে। ফলে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারে না, অথবা দেরিতে চিকিৎসা নেয়, যা রোগকে আরও জটিল করে তোলে।

নারী, শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট। পরিবারে যখন অর্থের সংকট থাকে, তখন অনেক সময় নারীদের চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যায়। ফলে চিকিৎসার অভাবে অনেক প্রতিরোধযোগ্য রোগও মারাত্মক আকার ধারণ করে।

চিকিৎসা ব্যয়ের এই সংকট শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় অর্থনৈতিক সমস্যা। যখন একটি বড় জনগোষ্ঠী চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে দরিদ্র হয়ে পড়ে, তখন তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। কর্মক্ষমতা কমে যায়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায় এবং দারিদ্র্যের চক্র আরও শক্তিশালী হয়।
এই পরিস্থিতির পেছনে বেশ কয়েকটি কাঠামোগত কারণ রয়েছে।

প্রথমত, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশের মোট জিডিপির একটি ছোট অংশই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা হয়। ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো শক্তিশালী করা সম্ভব হয় না। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যখাতে সুশাসনের অভাব রয়েছে। দুর্নীতি, অপচয় এবং অনিয়মের কারণে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার হয় না। তৃতীয়ত, জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা কম।

তবে সমস্যার সমাধান অসম্ভব নয়। প্রথমত, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এটি কেবল একটি ব্যয় নয়; বরং এটি একটি বিনিয়োগ, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয়ত, একটি কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ অসুস্থতার সময় আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকে। তৃতীয়ত, বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে, যাতে সেবার মান এবং খরচ উভয়ই নিয়ন্ত্রিত থাকে।
এছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করলে সহজে নিরাময় করা যায় এবং খরচও কম হয়।

কিন্তু যখন রোগ জটিল হয়ে যায়, তখন চিকিৎসার খরচ বেড়ে যায়। তাই প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারও স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিবর্তন আনতে পারে। টেলিমেডিসিন, অনলাইন পরামর্শ এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের মানুষও সহজে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পেতে পারে। এতে যাতায়াত খরচ কমবে এবং দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যেও স্বাস্থ্যসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা প্রদান করা হলে তারা চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়বে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্বাস্থ্যসেবাকে একটি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এটি কোনো বিলাসিতা নয়, যা কেবল সামর্থ্যবানরা ভোগ করবে। বরং এটি একটি মৌলিক অধিকার, যা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামাজিক সূচকে অগ্রগতির কথা আমরা প্রায়ই শুনি। কিন্তু যদি একটি বড় জনগোষ্ঠী চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে দরিদ্র হয়ে পড়ে, তাহলে এই উন্নয়ন কতটা টেকসই—সেই প্রশ্ন থেকে যায়।

চিকিৎসা একটি মানবিক বিষয়। এখানে মুনাফার চেয়ে মানবিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একজন মানুষ যখন অসুস্থ হয়, তখন সে কেবল চিকিৎসা চায়, আর্থিক চাপ নয়। তার এই মৌলিক চাহিদা পূরণ করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

অতএব, এখন সময় এসেছে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হবে না। যেখানে একটি অসুস্থতা কোনো পরিবারের জন্য দারিদ্র্যের কারণ হবে না। যেখানে স্বাস্থ্যসেবা সত্যিকার অর্থেই সবার জন্য নিশ্চিত হবে।

কারণ একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তার মানুষ সুস্থ, নিরাপদ এবং অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল থাকবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar