নিজস্ব প্রতিবেদক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারি সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ এবং প্রটোকল কমিয়ে আনার একগুচ্ছ নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে যাতায়াতের জন্য তিনি কোনো সরকারি গাড়ি, চালক বা জ্বালানি ব্যবহার করবেন না। এর পরিবর্তে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করবেন তিনি।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোট সরকার গত মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর প্রথম দুই কার্যদিবসেই প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল এবং নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে রাস্তার দুই পাশে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকার দীর্ঘদিনের রীতিও বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ১৪টি থেকে কমিয়ে মাত্র চারটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে মন্ত্রিসভার অধিকাংশ বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে মন্ত্রীদের যাতায়াতের সময় সড়কে ভিআইপি চলাচলের কারণে সৃষ্ট যানজট ও জনদুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া সাধারণ চলাচলের সময় তিনি গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করবেন না।
প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে প্রধানমন্ত্রী সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার ফলে এখন থেকে প্রতি শনিবারও তিনি অফিস করবেন। এদিকে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছেন। বিএনপির সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সংসদের কোনো সদস্য ডিউটি ফ্রি বা শুল্কমুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।
বুধবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৮০ দিনের একটি বিশেষ ‘রোডম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে আসন্ন রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘খাল খনন’ প্রকল্প দ্রুত শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রিসভার সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্নীতির প্রভাবমুক্ত হয়ে দৃশ্যমান কাজ করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।