মনির আহমদ আজাদ।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ে পবিত্র কাবা রক্ষায় আবাবিল পাখির আগমন কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। সেই ঘটনা আজও মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর সাহায্যের প্রতীক। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আজকের বাস্তবতায় কি আমরা কেবল অলৌকিক সহায়তার অপেক্ষায় আছি, নাকি নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছি?
বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরে পরাশক্তির প্রভাববলয়ে আবদ্ধ। United States ও Israel–এর সঙ্গে কৌশলগত জোটে জড়িয়েছে একাধিক আরব রাষ্ট্র। কেউ নিরাপত্তার অজুহাতে, কেউ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নামে, কেউ আবার আঞ্চলিক ভারসাম্যের যুক্তিতে। ফলাফল—মুসলিম বিশ্বের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, এই নীরবতা ও সমঝোতা কি ন্যায়ের পক্ষে, নাকি স্বার্থের পক্ষে?
অন্যদিকে Iran নিজেকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে উচ্চকণ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করে। শিয়া-সুন্নী বিভাজনের দেয়াল বহু দশক ধরে মুসলিম বিশ্বকে দুর্বল করেছে—এ অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্বের প্রধান সংকটগুলোতে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠের অভাবই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কে শিয়া, কে সুন্নী—এই বিতর্কে শক্তি ক্ষয় করে আমরা কি মূল প্রশ্ন থেকে সরে যাচ্ছি না?
আরব বিশ্বের শাসকদের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের জায়গা রয়েছে—গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, মানবাধিকার, পররাষ্ট্রনীতির স্বচ্ছতা—এসব প্রশ্নে বহু ঘাটতি আছে। তবে পুরো জাতিগোষ্ঠীকে এককভাবে দোষারোপ করা ন্যায়সঙ্গত নয়। রাষ্ট্রের নীতি ও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এক জিনিস নয়। অনেক সময় জনগণের মতামত নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিতই হয় না।
আজ প্রয়োজন আত্মসমালোচনা। মুসলিম বিশ্ব যদি সত্যিই শক্তিশালী হতে চায়, তবে তাকে জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় এগিয়ে যেতে হবে। আবাবিলের প্রতীক্ষা নয়—নৈতিকতা, ঐক্য ও ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বই হতে পারে মুক্তির পথ।
অতএব প্রশ্নটা আর “কে প্রকৃত মুসলমান” নয়; প্রশ্নটা হওয়া উচিত—কে ন্যায়, মানবিকতা ও স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারে? বিভাজন নয়, দায়িত্বশীল ঐক্যই আজ সময়ের দাবি।