বিশেষ প্রতিবেদন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় স্বাধীন বাংলাদেশ এবার ৫৬ বছরে পদার্পণ করেছে। দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে এবং এটি সরকারি ছুটির দিন।
দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরের যুদ্ধের পর বাংলায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয় এবং প্রায় ১৯০ বছর এ অঞ্চলের মানুষ শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অংশ হিসেবে নতুন শাসনব্যবস্থার অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি হয়।
পাকিস্তানি শাসনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে আন্দোলন গড়ে ওঠে। ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার আন্দোলন আরও জোরদার হয়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়ায় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। এর প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে গণহত্যা শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মুক্তিবাহিনী। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
প্রায় ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ নারী নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, যা বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে বিবেচিত।