প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে সিরিজ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ৫৫ রানের জয় এনে দিয়ে ২-১ ব্যবধানে ট্রফি নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড জাতিয় ক্রিকেট দল ২১০ রানেই অলআউট হয়ে যায়। বল হাতে চোট কাটিয়ে ফেরা মুস্তাফিজ রহমান একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিনি ৮ ওভারে ৩০ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নিয়ে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ পাঁচ উইকেট।
ইনিংসের শুরুতেই হেনরি নিকোলসকে ফিরিয়ে ধাক্কা দেন মুস্তাফিজ। পরে সেট হয়ে যাওয়া নিক কেলিকে আউট করে ভাঙেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। তাকে সহায়তা করেন নাহিদ রানা , যিনি ২ উইকেট নেন এবং একটি দ্রুতগতির ইয়র্কারে জশ ক্লার্কসনকে বোল্ড করেন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ডিন ফক্সক্রফট ৭৫ এবং নিক কেলি ৫৯ রান করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। সেই অবস্থায় হাল ধরেন নাজমুল হাসান শান্ত ও লিটন দাস। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৬০ রানের জুটি দলকে বড় সংগ্রহের পথে ফেরায়।
লিটন দাস ৭৬ রান করে আউট হলেও অপর প্রান্তে থেকে শান্ত তার চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তিনি ১১৯ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজ এর ২২ এবং তাওহীদ রিদয় -এর অপরাজিত ৩৩ রানের অবদানে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তোলে।
ম্যাচে ফিল্ডিংয়েও নজর কাড়েন মিরাজ। মুস্তাফিজের বলে নাথান স্মিথের ক্যাচটি তার ক্ষিপ্রতায় ধরা ম্যাচের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল।
এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জিতে সমতা ফেরায়। শেষ ম্যাচের জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মুখোমুখি হবে। ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দ্বিতীয় ম্যাচ ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে এবং শেষ ম্যাচ ২ মে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।