মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন ভান্তে (বৌদ্ধ ভিক্ষু) রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন এবং আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে মাইক্রোবাসটি খাদে পড়ে যায়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
স্থানীয় পথচারী ও বাসিন্দারা জানান, চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। রাস্তার বাঁক, সংকীর্ণতা এবং যথাযথ সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডের অভাবের কারণে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই জায়গায় প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়। কিন্তু কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। স্পিড ব্রেকার, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করি। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এমন দুর্ঘটনা থামানো সম্ভব নয়।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে দুইজন ভান্তের মৃত্যুর খবর স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এসব এলাকায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ—যেমন রাস্তা সংস্কার, গতি নিয়ন্ত্রণ, এবং পর্যাপ্ত সাইনেজ স্থাপন—না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।