মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এবং বিদেশি পর্যটক এই সড়ক ব্যবহার করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত নগরী কক্সবাজারে যাতায়াত করেন। পর্যটন, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক বর্তমানে যানবাহনের তুলনায় অনেকটাই সরু হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা, ঝরছে বহু প্রাণ।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন মহল ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এ মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান এমনকি অবরোধ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের বর্তমান অবস্থা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ অবস্থায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দে মহাসড়কের উভয় পাশে ৬ ফুট করে মোট ১২ ফুট প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এ প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। তবে বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প অনুযায়ী সমানভাবে ১২ ফুট সম্প্রসারণের কথা থাকলেও বাস্তবে কোথাও ৪ ফুট, কোথাও ৬ ফুট করে কাজ করা হচ্ছে। এতে সড়কের মান ও পরিকল্পনা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কাজের পরিমাপে কারসাজি হচ্ছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও তুলছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক মানের মহাসড়কে সামান্য প্রশস্তকরণ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। প্রতিদিন যেভাবে যানবাহনের চাপ বাড়ছে, তাতে চার বা ছয় লেন ছাড়া ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর এই মহাসড়কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তাই অস্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে আধুনিক বহুলেন সড়ক নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
এদিকে চলমান কাজের গুণগত মান ও সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, অনিয়মের মাধ্যমে নিম্নমানের কাজ হলে ভবিষ্যতে আবারও একই সংকট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে।