মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া অংশে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ অবশেষে শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের যানজট, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও ঘনঘন দুর্ঘটনায় ভোগান্তিতে থাকা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ এ উন্নয়ন কার্যক্রমকে স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে লোহাগাড়ার চুনতির জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ৯০০ মিটার মহাসড়ক চার লেনে প্রশস্তকরণের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাতকানিয়া থেকে লোহাগাড়ার বিভিন্ন অংশে পর্যায়ক্রমে সড়ক সম্প্রসারণের কাজও এগিয়ে চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংকীর্ণ অবস্থায় থাকায় বিশেষ করে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন বাঁকে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটতো। ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, “হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ-১)” এর আওতায় প্রায় ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ২ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের একটি ফ্লাইওভারও নির্মাণ করা হবে।
গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরে জানান, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রথম প্যাকেজে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে টাইম ক্যাফে রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। এ অংশের কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন এবং ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।
দ্বিতীয় প্যাকেজে রাজঘাটা থেকে চুনতি মিঠার দোকান পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে এমএ কনস্ট্রাকশন। এ অংশে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা।
তৃতীয় প্যাকেজে চুনতি মিঠার দোকান থেকে চুনতি জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ অংশের কাজও করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। এর আওতায় জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার অংশে ডিভাইডারসহ চার লেন নির্মাণ করা হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ জানান, বর্তমানে মহাসড়কটির প্রস্থ ২১ ফুট। এটি বাড়িয়ে ৩৪ ফুট করা হবে। এজন্য সড়কের উভয় পাশে কোথাও ৬ ফুট, কোথাও ৭ ফুট করে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে আরও ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, “চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ৯০০ মিটার অংশে মাঝখানে ডিভাইডার রেখে চার লেন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।”
তবে মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। রাস্তার দু’পাশ সম্প্রসারণ করা হলেও পথচারীদের জন্য আলাদা ফুটপাত রাখার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়ক প্রশস্ত করতে গিয়ে কার্যত ফুটপাতই গিলে খেয়েছে উন্নয়ন কাজ। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও নারী পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। দ্রুতগতির যানবাহনের চাপের মধ্যে ফুটপাতবিহীন মহাসড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে পথচারীদের। তাই সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ ফুটপাত নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন চালক ও যাত্রীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কাজ সম্পন্ন হলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণে আসবে। পাশাপাশি পুরো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবিও জানান তারা।