মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও প্রবীণ রেফারি মাস্টার নাছির আহমদ তাঁর দীর্ঘ ৩৬ বছরের সফল রেফারি জীবনের আনুষ্ঠানিক অবসর উপলক্ষে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক লাভ করেছেন। বুধবার (১৭ জুন) সকালে লোহাগাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্রীড়া জীবনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইবনে মাসুদ রানা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু জাফর, কম্পিউটার অপারেটর মুরাদ এবং অফিস সহকারী ছরওয়ার কামাল। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা, শৃঙ্খলাপূর্ণ খেলা উপহার দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে মাস্টার নাছির আহমদের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইবনে মাসুদ রানা বলেন, “মাস্টার নাছির আহমদ শুধু একজন দক্ষ রেফারি নন, তিনি লোহাগাড়ার ক্রীড়াঙ্গনের একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক ও ভবানীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ক্রীড়াঙ্গনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। উপজেলা শিক্ষা অফিস তাঁর এই অসামান্য অবদানকে সম্মান জানাতে পেরে গর্বিত।”
সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করে মাস্টার নাছির আহমদ বলেন, “লোহাগাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিস আমার দীর্ঘ ৩৬ বছরের রেফারি জীবনের আনুষ্ঠানিক অবসর উপলক্ষে আমাকে যে সম্মাননা দিয়েছে, তা আমার জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি। এই স্বীকৃতি আমাকে আজীবন অনুপ্রাণিত করবে। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই উপজেলা শিক্ষা অফিস, সহকর্মী, শিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক ও সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি, যারা দীর্ঘ পথচলায় আমাকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম হাতিয়ার। অবসরের পরও তিনি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও বিশিষ্টজনেরা বলেন, মাস্টার নাছির আহমদের মতো নিবেদিতপ্রাণ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের যথাযথ সম্মাননা প্রদান কেবল একজন ব্যক্তির অবদানের স্বীকৃতিই নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলা, নেতৃত্ব ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তারা মনে করেন, এমন সম্মাননা ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান রাখা মানুষদের প্রতি সমাজের শ্রদ্ধা ও মূল্যায়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।