ফরিদ আহমেদ , ব্রাহ্মণবাড়িয়া,প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শিবপুরে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতে তাঁর নামে একটি সঙ্গীত জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি তাঁর জন্মভিটা পরিদর্শন করেছে।
সোমবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি শিবপুরে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্মস্থান পরিদর্শন করে। এ সময় অধিদপ্তরের গবেষণা সহকারী ওমর ফারুকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দল নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়। সভায় নবীনগর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সমকালের সাংবাদিক মাহাবুব আলাম লিটন, কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক সংগঠক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শাহীন রেজাসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের নির্দেশনায় শিবপুরে ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত জাদুঘরটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববরেণ্য এই সংগীতজ্ঞের জীবন, কর্ম ও অবদান সংরক্ষণ এবং গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মতবিনিময় শেষে প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. নাহিদ সুলতানা বলেন, শিবপুর পরিদর্শনের প্রতিবেদন দ্রুত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। এরপর বিষয়টি গেজেট আকারে প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পরবর্তী সময়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী শিবপুর পরিদর্শন করবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘর স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে।
বিশ্বখ্যাত সংগীতগুরু ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শিবপুরে। পরে তিনি ভারতের মাইহারে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই প্রতিষ্ঠা করেন ‘মদিনা ভবন’। ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। জন্মভূমির মানুষের জন্য তিনি শিবপুরে একটি পুকুর ও একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর জন্মভিটাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে কোনো স্থায়ী সাংস্কৃতিক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অতীতে তাঁর নামে একটি কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
তবে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিকের উদ্যোগে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মা-বাবার কবর সংস্কার এবং তাঁর একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে শিবপুরে তাঁর বাবা-মায়ের কবর, বড় ভাই ফকির আফতাব উদ্দিন খাঁর সমাধি, তাঁর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ এবং তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি কলেজ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য কে. এম. মামুনুর রশিদ বলেন, “দীর্ঘ ৫৩ বছরেও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা চাই তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি জাতীয়করণ করা হোক এবং দ্রুত একটি আধুনিক সঙ্গীত জাদুঘর নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের আশা, প্রস্তাবিত জাদুঘর বাস্তবায়িত হলে শুধু শিবপুর নয়, পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও সংগীত ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে নতুন পরিচিতি লাভ করবে।