সাকিব আহসান
প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কৃষিনির্ভর জনপদ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই ধান, গম, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার, কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি এবং কৃষিবান্ধব বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের ফলে উপজেলার কৃষি খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। এই অগ্রযাত্রায় উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান-এর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে মৌসুমভিত্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, রোগবালাই দমন, সুষম সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ, জলবায়ু সহনশীল ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ এবং কৃষি প্রণোদনা সুষ্ঠুভাবে বিতরণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে ভুট্টা, গম, সরিষা ও আলুর আবাদ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত কার্যক্রম কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহ এবং কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করছে উপজেলা কৃষি অফিস।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় সভা, মাঠ দিবস এবং কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন অর্জনের কৌশল শেখানো হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক এখন আগের তুলনায় অধিক লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, “পীরগঞ্জের কৃষিকে আরও আধুনিক, লাভজনক ও টেকসই করতে আমরা মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছি। কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি, সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ এবং রোগবালাই দমনে সময়োপযোগী নির্দেশনা দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা করছি। সরকারের কৃষিবান্ধব কর্মসূচি যাতে প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। কৃষকদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পীরগঞ্জকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আধুনিক কৃষি উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় খরা ও অতিবৃষ্টি সহনশীল ফসলের আবাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের অভিযোজন কৌশল শেখানো হচ্ছে। এছাড়া কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন ভর্তুকি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা সময় ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, আগে অনেক সমস্যার সমাধান পেতে উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হলেও এখন কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে আসেন। ফলে রোগবালাই, সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা কিংবা নতুন জাতের ফসল সম্পর্কে দ্রুত পরামর্শ পাওয়া যায়। এতে কৃষকদের আস্থা যেমন বেড়েছে, তেমনি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকদের সচেতনতা ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, উপজেলা কৃষি অফিসের পরিকল্পিত কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পীরগঞ্জের কৃষি খাত নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় উন্নয়ন এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পীরগঞ্জ একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।