মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত লোহাগাড়া রেলওয়ে স্টেশনটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক স্থাপনা হলেও এর অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ মানুষের মতে, উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে এবং প্রায় বিচ্ছিন্ন এলাকায় স্টেশনটি স্থাপন করায় এটি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোহাগাড়া বটতলী মোটর স্টেশন থেকে রেলস্টেশনে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময়, খরচ ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেকের দাবি, যে পরিমাণ সময় ও অর্থ ব্যয় করে রেলস্টেশনে যেতে হয়, সেই একই খরচে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সড়কপথে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।
উপজেলার বেশিরভাগ ইউনিয়নের বাসিন্দারা মনে করেন, স্টেশনটির বর্তমান অবস্থান কেবল কয়েকটি ইউনিয়নের সীমিতসংখ্যক মানুষকে সুবিধা দিলেও বাকি এলাকার জনগণ কার্যত এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে এমন কথাও প্রচলিত রয়েছে যে, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ইচ্ছাতেই স্টেশনটি বর্তমান স্থানে স্থাপন করা হয়েছিল।
প্রায় সাড়ে এগার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের অন্যতম অংশ -এই লোহাগাড়া রেলওয়ে স্টেশন। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যেই এই মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
তবে স্থানীয়দের মতে, সুন্দর স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় স্টেশনটি কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা দিতে পারছে না। সন্ধ্যার পর স্টেশন এলাকাটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই।
একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে সাতকানিয়া রেলওয়ে স্টেশন নিয়েও। অনেকের মতে, কেরানীরহাট রেলক্রসিং এলাকায় স্টেশনটি স্থাপন করা হলে সাতকানিয়া ও বান্দরবানের যাত্রীরা আরও বেশি সুবিধা পেতেন এবং বান্দরবানের পর্যটন শিল্পও উপকৃত হতো।
বর্তমানে কক্সবাজারগামী চারটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে কক্সবাজার এক্সপ্রেস, পর্যটন এক্সপ্রেস ও সৈকত এক্সপ্রেস ননস্টপ চলাচল করে। কেবল প্রবাল এক্সপ্রেসের লোহাগাড়া স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান অবস্থানগত সমস্যার কারণে এর সুবিধা সাধারণ মানুষ খুব বেশি ভোগ করতে পারছেন না।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, লোহাগাড়া উপজেলার কেন্দ্রীয় এলাকায় নতুন একটি রেলস্টেশন স্থাপন কিংবা বিদ্যমান স্টেশনের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনসাধারণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।