স্টাফ রিপোর্টার।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ সদরে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
“উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়)-এর আওতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রোববার (২৮ জুন) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে শুরু হয়। প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হকের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আলাউদ্দিন সরকার।
এবারের প্রশিক্ষণের মূল বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে হাঁস-মুরগি ও গাভী পালন। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং সুফলভোগীদের দক্ষ ও স্বাবলম্বী খামারি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক উভয় ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মশালায় বিভিন্ন গ্রামের ১০টি দলের মোট ৮০ জন ঋণগ্রহীতা সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. উজ্জল হেসাইন, জেলা বিআরডিবির উপপরিচালক শেফালী জাহান, ইউআরডিও পলাশ রায়হান এবং বিআরডিবির মাঠ সংগঠক হেপী আক্তার।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগি ও গাভী পালনের বিভিন্ন কৌশল এবং খামার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন। বক্তারা বলেন, গ্রামীণ নারী ও সুফলভোগীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা সফল খামারি হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সুফলভোগীরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এ প্রশিক্ষণ আধুনিক পদ্ধতিতে পশুপাখি পালন সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে লাভজনক খামার গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
বিআরডিবির পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়)-এর আওতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় সুফলভোগীরা নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।