মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বটতলী শহর। সম্প্রতি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই অংশের মহাসড়ক প্রশস্ত করা হয়, যাতে যান চলাচল সহজ হয় এবং বাড়তে থাকা যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে সেই উন্নয়নের সুফল অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশের প্রশস্ত অংশের বড় একটি অংশ দখল করে রেখেছে বিভিন্ন বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন। অন্যদিকে সংকীর্ণ ফুটপাতের অধিকাংশ জায়গা ভাসমান ও অস্থায়ী দোকানের দখলে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়েই চলাচল করছেন। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে সামান্য চাপেই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বটতলী এলাকায় মাছ, সবজি, ফল, পোশাক ও বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী বাজার বসে। বাজারে আসা ক্রেতাদের মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন এলোমেলোভাবে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় মহাসড়কের কার্যকর প্রস্থ আরও কমে যায়। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী দূরপাল্লার যানবাহনসহ স্থানীয় পরিবহনও ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন একই চিত্র চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
একজন পথচারী বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ নেই। দোকান আর মোটরসাইকেলের কারণে বাধ্য হয়ে মহাসড়কে হাঁটতে হয়। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চলাফেরা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।”
একজন পরিবহনচালক বলেন, “যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড় করানো হয়। বাজারের সময় তো মহাসড়ক প্রায় এক লেনে নেমে আসে। এতে প্রতিদিনই যানজট হয়।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, নির্ধারিত বাজার ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে ব্যবসা করেন। তাদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা করে দিলে মহাসড়ক দখলের প্রয়োজন হবে না।
সচেতন নাগরিকদের মতে, জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল ও অস্থায়ী বাজার শুধু যানজটই নয়, বড় ধরনের দুর্ঘটনারও কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত তদারকি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই সমস্যা দূর হবে না।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অবৈধ পার্কিং ও যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে ব্যবসায়ী, চালক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় মহাসড়কের জায়গা দখল বা অবৈধ স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোথাও অবৈধ দখলের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন অবৈধ দখল বা পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও যদি মহাসড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা না যায়, তাহলে সেই উন্নয়নের প্রকৃত সুফল জনগণ কীভাবে পাবে?
বটতলী শহরের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা—জাতীয় মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।