মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ পহর চাঁন্দা। চারদিকে পাহাড় ও টিলাবেষ্টিত এই জনপদের মানুষের কাছে উন্নয়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ একটি মাত্র কাঁচা সড়ক। বর্ষা শুরু হলেই প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক কাদা, পানি ও পিচ্ছিল মাটিতে পরিণত হয়ে জনজীবনকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলে। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের শিকার হলেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সড়কই পহর চাঁন্দাবাসীর উপজেলা সদর, বটতলী বাজারসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে পথচারীদের চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তেমনি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। অনেক সময় পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
সবচেয়ে করুণ চিত্র দেখা যায় জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে। এলাকাবাসী জানান, কাঁচা ও কর্দমাক্ত সড়কে ভ্যান কিংবা অন্যান্য হালকা যানবাহন চলতে না পারায় অসুস্থ রোগীদের কাঁধে কিংবা অস্থায়ী খাটিয়ায় বহন করে মূল সড়কে আনতে হয়। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির পাশাপাশি স্বজনদেরও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
স্থানীয়রা আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচন এলেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু ভোট শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতিও হারিয়ে যায়। ফলে প্রতি বর্ষায় দুর্ভোগ যেন পহর চাঁন্দাবাসীর নিত্যসঙ্গী।
পহর চাঁন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, “এই রাস্তার প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা। বর্ষাকালে কাদা ও পানির কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অনেক বেশি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।”
এলাকাবাসীর দাবি, তারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং রাষ্ট্রের সব দায়িত্ব পালন করেন। তাই নিরাপদ ও টেকসই একটি সড়ক পাওয়া তাদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন—স্বাধীনতার এত বছর পরও কি একটি চলাচলযোগ্য সড়কের জন্য তাদের এভাবেই অপেক্ষা করতে হবে? নাকি এবার সত্যিই শেষ হবে পহর চাঁন্দাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ?