মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দীর্ঘদিন ধরে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার জন্য আলোচিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে নিরাপদ করতে শুরু হয়েছে প্রশস্তকরণের কাজ। প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চললেও চলতি বর্ষায় উন্নয়ন কাজের জন্য ফেলা মাটি বৃষ্টিতে পিচ্ছিল হয়ে নতুন করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বর্তমানে কেরানিহাট রাস্তার মাথা থেকে রাজঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়কের এক পাশে প্রায় ৬ ফুট প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। একইভাবে রাজঘাটা ব্রিজ থেকে চুনতি পর্যন্ত আরেকটি প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া তৃতীয় ধাপে চুনতি মিডার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় এমএইচ কনস্ট্রাকশন প্রশস্তকরণের কাজ বাস্তবায়ন করছে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের উভয় পাশে ৬ ফুট করে মোট ১২ ফুট প্রশস্ত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ কয়েকটি এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খানদীঘ এলাকার লামিসা হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে আজিজনগর সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশকে দুর্ঘটনার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই অংশে চার লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশস্তকরণের জন্য মহাসড়কের পাশে ফেলা মাটি বৃষ্টিতে কাদায় পরিণত হওয়ায় অনেক স্থানে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনের চালকদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, কাজ চলাকালে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, প্রতিফলক, নিরাপত্তা ব্যারিকেড এবং দ্রুত মাটি সমতল ও দৃঢ় করার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
খানদীঘ, চুনতি ও জাঙ্গালিয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। সরু সড়ক, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক এবং বেপরোয়া গতিতে যান চলাচলের কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারমুখী যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু দুই পাশে সীমিত প্রশস্তকরণ ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য পুরো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে পর্যায়ক্রমে চার লেন এবং ভবিষ্যতে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত চার লেন নির্মাণের কাজ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, “নিয়ম মেনেই দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। জনভোগান্তি কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
সংশ্লিষ্টদের আশা, চলমান প্রশস্তকরণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ অংশে চার লেন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে যান চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক হবে। তবে বর্ষাকালে উন্নয়ন কাজের কারণে সৃষ্টি হওয়া সাময়িক ঝুঁকি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।