মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা সদরের দরবেশহাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হাটের দক্ষিণ পাশে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই একের পর এক দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা পুঁজি, মালামাল ও দোকানের অবকাঠামো আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত না হলেও, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের একটি দোকানে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে সমশুল ইসলামের সারের দোকান, আবু তাহেরের লেপ-তোষকের দোকান, নাজিম উদ্দীনের লেপ-তোষকের দোকান, রতন কর্মকারের দোকান, জমিরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দোকানসহ মোট সাতটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আগুনের ভয়াবহতায় দোকানগুলোর ভেতরে থাকা মালামাল উদ্ধার করারও সুযোগ পাননি ব্যবসায়ীরা।
খবর পেয়ে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়। এতে অন্তত আরও ১০টির মতো দোকান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকেরই ব্যবসাই ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “বছরের পর বছর কষ্ট করে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলাম। কয়েক মিনিটের আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মতো কোনো পুঁজি নেই।”
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “চোখের সামনে দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেল, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি। পরিবার নিয়ে এখন কীভাবে চলব, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, দরবেশহাট উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ফলে তারা শুধু আর্থিক ক্ষতির মুখেই পড়েননি, বরং জীবিকা নিয়েও গভীর সংকটে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সরকারি তালিকা প্রণয়ন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তারা উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এমন দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্যও জরুরি। দ্রুত সহায়তা না পেলে অনেক ব্যবসায়ী স্থায়ীভাবে ব্যবসা হারিয়ে বেকার হয়ে পড়তে পারেন। এ ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।