মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দিনের পর দিন পানিবন্দি থাকার পর অবশেষে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। কিন্তু পানি নেমে গেলেও মানুষের জীবনে নেমে আসা দুর্ভোগের শেষ হয়নি। কোথাও ভেঙে পড়েছে বসতঘর, কোথাও কাদামাটিতে ডুবে আছে সংসারের শেষ সম্বল। পানিতে তলিয়ে যাওয়া রান্নাঘরের চুলায় এখনও জমে আছে কাদামিশ্রিত পানি। ঘরে নেই চাল-ডাল, নেই রান্নার উপকরণ। বহু পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি দিনের পর দিন। ক্ষুধার তীব্র জ্বালা আর অনিশ্চিত আগামী নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন বন্যাকবলিত মানুষ।
এমন সংকটময় সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশপ্রিয় এই বাহিনীর সদস্যরা সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে তারা দুর্গম এলাকাতেও নিরলসভাবে কাজ করেন। সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ দুর্গত মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন। তিনি সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশার কথা শোনেন এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। বসতঘর মেরামত, নিরাপদ পানীয় জল, খাদ্য, চিকিৎসা এবং কৃষি পুনর্বাসন এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। তারা মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই দুর্যোগ-পরবর্তী সংকট কাটিয়ে উঠতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।
বন্যা হয়তো ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে, কিন্তু মানুষের চোখে-মুখে রয়ে গেছে সেই বিভীষিকার স্মৃতি। তাই এই মুহূর্তে প্রয়োজন কেবল ত্রাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, সহমর্মিতা এবং মানবিক দায়িত্ববোধের বাস্তব প্রয়োগ।