মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই), ২০২৬ | সন্ধ্যা ৭টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না করেই প্রায় ৯০ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই কাগজে-কলমে প্রকল্প শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে সরকারি অর্থ দ্রুত আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনটি উৎস থেকে মোট প্রায় ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ডিও লেটারের মাধ্যমে ৪১ লাখ টাকা, উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং জাতীয় রাজস্ব তহবিল থেকে ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। নিয়ম অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকৌশলীর প্রত্যয়ন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদনের ভিত্তিতে বিল পাস হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত বা ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বানের নিয়ম থাকলেও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে গোপনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব তহবিলের ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস, প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিস, পরিষদ ভবন ও মুক্তিযোদ্ধা ভবন সংস্কারের জন্য। স্থানীয়দের দাবি, এসব সংস্কার কাজ বাস্তবে হয়নি। একইভাবে উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও শিশু পার্ক সংস্কারের ৩০ লাখ টাকার বরাদ্দেরও কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “মাঠে গেলেই বোঝা যায় অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। অথচ কাগজে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সরকার উন্নয়নের জন্য জনগণের অর্থ বরাদ্দ দেয়। কিন্তু কাজ যদি বাস্তবে না হয়, তাহলে সেই অর্থ কোথায় গেল—তা তদন্ত করে জনগণের সামনে আনা উচিত।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, “কাজ শেষ না করে বিল নেওয়ার সুযোগ নেই। যেসব কাজ শেষ হয়নি, সেগুলো চলমান হিসেবে দেখানো হয়েছে। আমি নিজেও একটি প্রকল্প পরিদর্শনে আছি।”