1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তারের জের: শরণখোলায় ওসির বিরুদ্ধে সোর্সের অভিযোগ, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য - bdtelegraph24.com
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন

শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তারের জের: শরণখোলায় ওসির বিরুদ্ধে সোর্সের অভিযোগ, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬৩ জন খবরটি পড়েছেন

▪ ইয়াবা দাবি ও মাসোহারা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

▪ কনস্টেবলের বিরুদ্ধেও মাদক সেবনের অভিযোগ

▪ প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

​মোঃ নাজমুল ইসলাম সবুজ শরণখোলা (বাগেরহাট)।

​বাগেরহাটের শরণখোলায় শীর্ষ মাদক কারবারি ইলিয়াস তালুকদারকে গ্রেপ্তারের পর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানমের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন খোদ পুলিশেরই এক কথিত সোর্স। সোমবার (৩ আগস্ট) বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগে মঠেরপাড় এলাকার বাসিন্দা ও কলেজছাত্র মো. শফিকুল ইসলাম মুসা দাবি করেন, ওসির বেআইনি নির্দেশ মেটাতে না পারায় তাকে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শীর্ষ অপরাধীর গ্রেপ্তারের খবরের চেয়ে এখন ওসি, কথিত সোর্স এবং পুলিশ সদস্যদের ঘিরে এই বহুমুখী বিতর্কই পুরো উপজেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

​অভিযোগকারী মুসার ভাষ্যমতে, শীর্ষ মাদক কারবারি ইলিয়াসকে দেখতে পেয়ে তিনিই পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযানের পর ওসি রোকেয়া খানম তার কাছে ১০০ পিস ইয়াবা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় ওসির বডিগার্ড নাহিদ হাসান সুমনের মাধ্যমে ৫০ পিস ইয়াবা থানার গেটের সামনে রেখে যেতে বলা হয়। অন্যথায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশের কথা বলে তাকে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, মুসা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘রায়হান’ নামের এক পুলিশ কনস্টেবল ইলিয়াসসহ এলাকার সকল মাদক কারবারির কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মাদক বিক্রেতাও দাবি করেন, কনস্টেবল রায়হান একজন মাদকাসক্ত এবং তাকে টাকার পাশাপাশি সেবনের জন্য নিয়মিত ইয়াবা ও গাঁজাও সরবরাহ করতে হতো।

​মূলত এই অভাবনীয় বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে গত রবিবার (২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে শীর্ষ মাদক কারবারি ইলিয়াস তালুকদারের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। এদিন রায়েন্দা বাজারের ওয়াপদা কলোনি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে ইলিয়াসের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধূর্ত ইলিয়াস বাউন্ডারি টপকে পাশের নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। তবে কড়া নজরদারির কারণে শেষ পর্যন্ত নদী থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ১৮ পিস ইয়াবা, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং নগদ ২৯ হাজার ৫৭৫ টাকা জব্দ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে চাইনিজ কুড়াল ও চাপাতিসহ বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তার সহযোগী সোহাগকেও আটক করেছে পুলিশ।

​এদিকে, মুসার এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে সোমবার বিকেলে একটি ফেসবুক লাইভে আসেন ওসি রোকেয়া খানম। তিনি বলেন, গত ৫ জুলাই থানায় যোগদানের পর মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতেছে। তিনি জানান, ইলিয়াস একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। এর আগেও তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে সে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত করে পালিয়েছিল। ইলিয়াসের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় ৮টি এবং তার সহযোগী সোহাগের বিরুদ্ধে ২টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া, অভিযোগকারী মুসা আদৌ কোনো পত্রিকার সাংবাদিক কি না, সে বিষয়েও পুলিশি তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​অপরদিকে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াস ওই কথিত সোর্স সম্পর্কে রীতিমতো চমকে ওঠার মতো তথ্য দিয়েছেন। ইলিয়াস জানান, শফিকুল ইসলাম মুসা নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী এবং র‍্যাব-পুলিশের সোর্স পরিচয় দিতেন। এই মুসার মাধ্যমেই শরণখোলা থানায় প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা মাসোহারা দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে ইয়াবা ও গাঁজার কারবার চালিয়ে আসছিলেন।

​জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় ৮টি এবং তার সহযোগী সোহাগের বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে। সোমবার সকালে তাদের বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​শীর্ষ এই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরলেও, ওসি, কথিত সোর্স, কনস্টেবল এবং মাদক কারবারির এই ত্রিমুখী অভিযোগের ধুম্রজাল জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar