নিউজ ডেস্ক / নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার (১৬ আগস্ট), রাত ৯টা ৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দেশের অর্থায়ন কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাতে বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে সরকার। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসসহ বেশ কয়েকটি বড় বিদেশি ফান্ড ম্যানেজার বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস কনফিডেন্স’ শীর্ষক মধ্যাহ্নভোজসভায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রায় পুরোপুরি প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, যা সঠিক নয়। বড় বিনিয়োগের অর্থায়ন হওয়া উচিত পুঁজিবাজারের মাধ্যমে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক কাঠামো পরিবর্তিত হলেও বাংলাদেশ এখনো ব্যাংকঋণনির্ভর ব্যবস্থার মধ্যে আটকে আছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে বিকল্প অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বাইরেও নতুন অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বন্ডের সুদের হার ব্যাংকঋণের চেয়ে কম হওয়ায় অর্থায়নের ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
ব্যাংক খাতের সংকট নিয়ে তিনি বলেন, দেশের অনেক ব্যাংক বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে এবং মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে। অর্থপাচার ও উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বাজেট থেকে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সরকারি সহায়তা ও উদ্ধার তহবিলের সমন্বয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।
কর ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি অংশে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি অংশ নীতিনির্ধারণ করবে, অন্যটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া পুরো করব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে রিটার্ন জমা থেকে শুরু করে কর ফেরত পাওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম অনলাইনে দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বা ডিরেগুলেশন নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতিনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই একটি ওয়েবসাইট চালু করা হবে, যেখানে ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে যেকোনো বাধার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান।