নজরুল ইসলাম, যশোর
সোমবার (১৭ আগস্ট), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
তীব্র জনবল সংকটের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৭৫টি পদ শূন্য থাকায় পণ্য খালাস ও পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের মূল্যের ওপর।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দরে মোট ২১৬টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ১৪১ জন কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন ধরে ৭৫টি পদ শূন্য থাকায় একজন কর্মকর্তাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে বন্দরের বিভিন্ন বিভাগ ও শেডে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, “বন্দরে জনবল না থাকায় আমদানিকৃত পণ্য যথাসময়ে লোড-আনলোড করা যাচ্ছে না। ফলে এক দিনের কাজ কখনো দুই দিনে শেষ করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বেনাপোলের সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় একটি অংশ যুক্ত। তাই এই বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হলে তার প্রভাব দেশের বিভিন্ন বাজারেও পড়ে।”
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ডেপুটি পরিচালকের চারটি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র একজন দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গত ৩ আগস্ট পরিচালককে অন্যত্র বদলি করা হলেও এখনো নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ওয়ারহাউস সুপারিনটেনডেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
বেনাপোল বন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “কোনো আমদানিকারকের প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট শেডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকলে পণ্য লোড বা আনলোডের কাজ শুরু করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে এক দিনের কাজ কখনো কখনো দুই দিন পরও শেষ করতে হচ্ছে।”
ব্যবসায়ীরা জানান, পণ্য খালাসে দেরি হওয়ায় ট্রাক আটকে থাকে, যার ফলে আমদানিকারকদের প্রতিদিন ট্রাকপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, যার চাপ পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, “সমস্যার সমাধানে নতুন নিয়োগের পাশাপাশি বর্তমান জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। খালি পদগুলো পূরণের পাশাপাশি ঢাকায় অনুমোদিত পদের অতিরিক্ত থাকা কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে পদায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।”
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান বলেন, “বর্তমানে বেনাপোল স্থলবন্দরে জনবল সংকট রয়েছে। সংকট নিরসনে যাতে দ্রুত জনবল নিয়োগ করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।”