নজরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর), ২০২৬ | রাত ৭:৩৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সুন্দরবনে ডাকাতি ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন বনদস্যু কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোংলা সদর দপ্তরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)। তারা সবাই খুলনা ও বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।
দীর্ঘদিন ধরে তারা সুন্দরবনে জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন। আত্মসমর্পণকালে তারা একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রী গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার, দুটি এয়ার গানসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেন।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহদীন বলেন, “সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, এই অভিযানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং জিম্মি থাকা ৪২ জন জেলেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩৭ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।