নিউজ ডেস্ক
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি নতুন করে ২ হাজার ৫০০টি পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়েও এই সুবিধা সম্প্রসারণের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন, পাবনা ও রাজশাহীতে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই সিলেটসহ অন্যান্য স্থানেও কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।”
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ করতে হবে এবং প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।
গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ২৪ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) ও ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকলেও এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায় অবস্থিত। প্রান্তিক পর্যায়ে এই সেবার অপ্রতুলতা দূর করতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের অভাব দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। এছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করা এবং সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।