নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করছি, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।”
ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সরকার ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।”
মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারের মেয়াদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।”
সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।