নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ১১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মাছ হিসেবে পরিচিত হলেও তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীতে ইলিশের দেখা মেলায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তবে নদীর নাব্যতা সংকট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে আশানুরূপ ইলিশ আহরণ করতে পারছেন না জেলেরা।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রামের ৬টি, গাইবান্ধার ৪টি ও লালমনিরহাটের ১টি উপজেলায় প্রতি বছর ৫০ থেকে ৬০ টন ইলিশ পাওয়া যায়। গত মৌসুমে এই অঞ্চলে ৪৮ টন ইলিশ আহরণ করা হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় জেলেরা আবারও নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, “মাঝেমধ্যে উত্তরের নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে নদীগুলোর নাব্যতা সংকট বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া জেলেদের কারিগরি সহায়তার অভাব রয়েছে। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি।”
রংপুর মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “সরকারের ইলিশ নিধন বন্ধ কার্যক্রমের আওতায় ১ হাজার ৬শ’ জেলেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পারলে এ অঞ্চলে ইলিশের অপার সম্ভাবনা দেখা দেবে। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র খননের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।”
জেলেদের ভাষ্যমতে, নৌকা সংকট ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছ ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদীতে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলেরা জানান, কালীপূজা পর্যন্ত নদীতে ইলিশ পাওয়া যাবে, এরপর এর পরিমাণ কমে আসবে।
অবসরপ্রাপ্ত মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা জুবায়ের আলী বলেন, “ইলিশ মূলত সাগরের মাছ। যেসব নদীর সঙ্গে সাগরের সংযোগ আছে, সেসব নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়। এক সময় তিস্তা খরস্রোতা ছিল, তখন সাগর থেকে ইলিশ ডিম পাড়তে আসত। এ অঞ্চলে ইলিশের আগমন বাড়াতে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই।” সূত্র-বাসস