নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ২০২৬, সকাল ১১টা ১৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে এসব কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদন ক্ষমতার কারখানা স্থাপন করা হবে। বিসিআইসি জানায়, বর্তমানে সংস্থাটির অধীনে সাতটি সার কারখানা রয়েছে, যা দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করতে পারছে না। চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার বিপরীতে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি প্রদান করে।
ভোলায় ইউরিয়া ও চট্টগ্রামে টিএসপি কারখানা
দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে ভোলায় নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারখানাটি বাস্তবায়িত হলে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাঁচামালের সংকট ও প্ল্যান্টের সমস্যার কারণে বিদ্যমান টিএসপি কমপ্লেক্সে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা ও কর্মসংস্থান
নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউএফ-৮৫ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ ও উৎপাদন পর্যায়ে প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, “দেশের সার চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি ও অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন কারখানা স্থাপনের ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পর নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছি।”