প্রতিনিধি, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চারশ একর আয়তনের চিংড়ি ঘের দখলের হুমকি দেয়ায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিএনপি নেতা আমজাদুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির আব্দুস সাত্তার মোড়লের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে জমি ও ঘের মালিকরা। সোমবার বেলা ১২ টায় উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের সোনাখালী বাজার সংলগ্ন সড়কে ঘন্টাব্যাপী ঐ মানববন্ধন অনষ্ঠিত হয়। আমজাদুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও স্থানীয় পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।
চিংড়ি ঘের ও জমি মালিকদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তরা অভিযোগ করেন দীর্ঘদিন ধরে তারা জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সাত্তার মোড়লের শোষন ও নির্যাতনের শিকার। কৌশলে জমি লীজ নিয়ে সেখানে বছরের পর বছর ধরে ঘের পরিচলনা করলেও টাকা না দিয়ে বরং জমি মালিকদের নানাভাবে হয়রানী করেন তিনি। এমন অবস্থায় তারা কালিকাপুরের শমসের আলী গাজীর ছেলে রবিউল্লাহসহ তার ভাইদের নিকট নুতন বছরের জন্য জমি লীজ দেয়ায় বিএনপি নেতা আমজাদুল ইসলাম ও তার লোকজন উক্ত ঘের দখলের হুমকি দিচ্ছে। জমি মালিকরা আরও অভিযোগ করেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে তাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। তবে ৫ আগষ্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বিএনপি নেতা আমজাদুল ইসলামকে দিয়ে পুর্বেকার ন্যায় তাদেরকে স্বত্ত্ব দখলীয় প্রায় ১২শ বিঘার উক্ত ঘেরের মালিকানা থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্তে মেতেছে। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জমি মালিক মাখন লাল, বেলাল হোসেন, তারক চন্দ্র সরকার, মাষ্টার হাবিবুর রহমান, মমতাজুর রহমান, মোঃ নুরুজ্জামান, হাফিজুর রহমান ঘের মালিক রবিউল্লাহ বাহার প্রমুখ।
এদিকে মানববন্ধন শেষে সংবাদকর্মীসহ জমি ও ঘের মালিকরা পাখিমারা খেয়াঘাট এলাকায় পৌছালে হুলুস্থুল কান্ড ঘটে। বিএনপি নেতা আমজাদুল ইসলামসহ তার অনুসারীরা খেয়াঘাট এলাকায় অবস্থান নিয়ে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এসময় তারা আব্দুস সাত্তার মোড়লকে বিএনপির সমর্থক দাবি করার পাশাপাশি ব্যানারে আমজাদুল ইসলামের ছবি ব্যবহারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। একপর্যায়ে সাংবাদিক ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এলে ফেরিসহ নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তার মোড়ল জানান তিনি তার অংশ ৫ আগষ্টের আগেই আমজাদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তার কাছে কারও কোন পাওনা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
বিএনপির সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম জানান জানুয়ারী মাসেই তার নামে ঘেরের ৮০ ভাগ মালিকানা হস্তান্তর করেছেন। তার এলাকাতে ঘের হওয়ার সত্ত্বেও অদ্যাবধি তিনি দখলের চেষ্টাও করেননি। স্থানীয় আ’লীগ ও জেলা বিএনপির এক নেতার ইন্ধনে মিথ্যা প্রবাগান্ডা ছড়িয়ে তার সম্মানহানীর চেষ্টা চলছে।