নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সৌদি আরবে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কান তরুণ আনোজান শিবরাশার প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন তার পরিবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ২৪ বছর বয়সী এই অভিবাসী শ্রমিককে শরিয়াহ আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ড দেন সৌদি আরবের আপিল আদালত। তাকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য শ্রীলঙ্কা সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আনোজানের মা রসমানিক্কাম যোগলক্ষ্মী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের করা ভুলের জন্য আমি ক্ষমা চাই। দয়া করে তাকে ক্ষমা করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।”
ঘটনাটি শ্রীলঙ্কাজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আনোজানকে বাঁচাতে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা ও নাগরিক সমাজ একজোট হয়েছে। তবে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজানের কোনো যোগাযোগ নেই। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার স্বার্থে পরিবারের সদস্যদের এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা না বলার অনুরোধ করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি প্রক্রিয়া
শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে শুরু হওয়া বিতর্কের জেরে আনোজান মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। যদিও তিনি দ্রুত মন্তব্যটি মুছে ফেলে ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চেয়েছিলেন, কিন্তু তার আগেই স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই মাসে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে।
আনোজানের ভাই হামসিদান শিবরাশা জানান, শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল করে বিষয়টি জানালে সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়। প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করলেও, ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল আদালত শরিয়াহ আইনের অধীনে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
সরকারি ও ধর্মীয় উদ্যোগ
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে আনোজানের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তার সরকার সাধারণ ক্ষমা আদায়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। এছাড়া দেশটির শীর্ষ বৌদ্ধ ভিক্ষু ও হিন্দু ধর্মীয় নেতারাও আনোজানের জীবন রক্ষায় দ্রুত রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো সময়সূচি প্রকাশ করেনি।