বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। একসময় পিএসসির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই কর্মকর্তা বর্তমানে ভারতে পলাতক বলে জানা গেছে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় ছাত্র ও জনতার আন্দোলন দমনে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন হাবিবুর রহমান। সেই সময় পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ নিহত হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ‘সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ’ করে গুলি চালাতে নির্দেশ দেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ২০১৩ সাল থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আন্দোলন দমনে তার ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই তিনি দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতি ও বদলিবাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। ঢাকার সাভার ও আশপাশের এলাকায় ‘হাবিব নগর’ ও ‘উত্তরণ পল্লী’ নামে দুটি আবাসিক প্রকল্পে তার বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া, নারী সদস্যদের হয়রানি, কাবাডি ফেডারেশনের অর্থ অপব্যবহারসহ একাধিক কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে হাবিবুর রহমান ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঝুলছে। তবে তার পক্ষে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।