টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ‘তালা ঝুলিয়ে কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে অবিলম্বে কাজে ফিরতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন, আচরণবিধি এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। বুধবার জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষকরা দ্রুত বিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে তৃতীয় প্রান্তিকের পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। অন্যথায় শৃঙ্খলা-বিরোধী কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন তিরস্কার থেকে সর্বোচ্চ চাকরিচ্যুতি পর্যন্ত শাস্তি আরোপ করা হতে পারে। সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ অনুযায়ী আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য পদোন্নতি স্থগিত, বেতন অবনমন, ক্ষতিপূরণ আদায় কিংবা বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার বিধানও রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করছেন। কোথাও কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষকদের বাধা দেওয়া এবং হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যাহত হওয়াকে ‘অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।
এদিকে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো তিন দফা দাবি তুলে ধরেছে—সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড থেকে উন্নীত করে ১১তম গ্রেড করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা। গত ২৭ নভেম্বর থেকে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ কর্মবিরতি পালন করছে এবং সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়। অন্য সংগঠন ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ও একই দাবিতে পূর্বে কর্মবিরতি করেছে এবং জানিয়েছে—দাবি পূরণ না হলে ৪ ডিসেম্বর থেকে তারা ‘তালাবদ্ধ’ কর্মসূচি শুরু করবে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, দাবিগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে বেতন কমিশন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় পে-কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর গ্রেড উন্নয়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে অর্থ বিভাগ আশ্বস্ত করেছে।
সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির বেশি এবং শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের মতো। আন্দোলনের কারণে তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।