টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও লাখো মানুষ অংশ নেন।
শনিবার দুপুর আড়াইটায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মরদেহ মিছিলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
হাদির দর্শন অনুসরণের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার জানাজার পূর্বে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ওসমান হাদি কেবল একজন তরুণ নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি একটি নতুন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পথপ্রদর্শক। ড. ইউনূস বলেন, “হাদি নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন এবং একটি আদর্শ নির্বাচন কীভাবে করা উচিত, তার প্রক্রিয়া তিনি দেখিয়ে গেছেন। তার সেই নির্বাচনী শিক্ষা ও জনসংযোগের কৌশল আমাদের গ্রহণ করতে হবে।”
হাদির স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, হাদি ততদিন প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। তিনি যা বলে গেছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য আমরা আজ এখানে ওয়াদা করছি। এই ওয়াদা শুধু আমাদের নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেশের মানুষ রক্ষা করবে।”
যেভাবে মৃত্যু হলো হাদির গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শনিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের বিশাল শোক মিছিলসহ মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে জানাজার স্থলে নিয়ে আসা হয়।