কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে বোরো ধান আবাদের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পানি সময়মতো নেমে যাওয়ায় হাওর পাড়ের কৃষকেরা এখন বীজতলা পরিচর্যা ও জমি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে আবাদের এই উৎসবমুখর আবহাওয়ার মধ্যেও সার ও ডিজেলের বাড়তি দাম নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামসহ হাওরাঞ্চলেই আবাদ হবে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে।
মাঠে ব্যস্ততা, বাজারে ভিড় কম শীতের কনকনে সকালে হাওরের পানি নেমে যাওয়া জমিগুলোতে এখন কৃষকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। কেউ হালচাষ করছেন, কেউ বীজতলায় পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ চারা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিবারের পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও চারা বা আঁটি বাঁধার কাজে হাত লাগাচ্ছেন। কৃষিকাজে এই বিপুল ব্যস্ততার কারণে দিনের বেলা স্থানীয় বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে।
অষ্টগ্রাম ও নিকলীর কৃষকেরা বলছেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বীজতলার অবস্থা বেশ ভালো। তবে এক ফসলি এই অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান দুশ্চিন্তা এখন উৎপাদন খরচ নিয়ে।
খরচ ও সারের দাম নিয়ে ক্ষোভ হাওরের কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে খুচরা পর্যায়ে সারের দাম বেশি রাখা হচ্ছে। মিঠামইনের কৃষক নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “সরকার সারের দাম কমানোর কথা বললেও খুচরা দোকানে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।” এর পাশাপাশি ডিজেলের উচ্চমূল্য এবং সম্ভাব্য পোকামাকড়ের আক্রমণ ও আগাম বন্যার ভয় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
চাষিদের দাবি, সার ও জ্বালানি তেলের দাম আরও কমানো না হলে বোরো আবাদ করে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়বে।
কৃষি বিভাগের আশ্বাসের বাণী অবশ্য কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের সব ধরণের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত আছে এবং চারাও বেশ ভালো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “কৃষক যেন সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পান, সেজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। বোরো আবাদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এই তদারকি অব্যাহত থাকবে।”
হাওরের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হবে আগামী বৈশাখে, যখন শুরু হবে নতুন ধান কাটার উৎসব। তবে সেই হাসি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অনুপস্থিতি ও বাজার স্থিতিশীল থাকার ওপর।