ঢাকা ।। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় স্থাপনের অংশ হিসেবে আগামী জানুয়ারি মাসেই ঢাকা-করাচি ফ্লাইট শুরু হতে যাচ্ছে। রোববার ঢাকার একটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতকালে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বৈঠকে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উল্লেখ করেন যে, গত এক বছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এখন বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্রগুলো সক্রিয়ভাবে অন্বেষণ করছে। বাণিজ্য ও বিমান চলাচলের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিনিময় বৃদ্ধির ওপরও বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে আগ্রহ বৈঠকে উঠে আসে যে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ আগের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন—ন্যানো প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের উচ্চতর গবেষণায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। দুই দেশের মধ্যে এই ধরণের শিক্ষা বিনিময় আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ পাকিস্তান লিভার এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো জটিল চিকিৎসায় তাদের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের যাতায়াত বৃদ্ধির বিষয়টি লক্ষ্য করেছে। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান এই বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ এবং একাডেমিক সুযোগ দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
দীর্ঘদিন পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকটি দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।