মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা এলাকায় দুই রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও কাজের সুযোগ দিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন সহজ-সরল কৃষক আবদুল আজিজ। দীর্ঘ তিন বছর ধরে ওই দুই রোহিঙ্গা তার বাড়িতে বসবাস করে কৃষিকাজ ও গৃহস্থালি কাজে সহযোগিতা করছিল। দীর্ঘদিনের চলাফেরায় তারা পরিবারের সদস্যের মতো বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের মূল্য দিতে হয়েছে চরমভাবে।
ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ জানান, সম্প্রতি তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওই দুই রোহিঙ্গা তার বাড়ি থেকে একটি গরু এবং মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো নগদ তিন লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন। তার ভাষায়, ওদের মানুষ ভেবে আশ্রয় দিয়েছিলাম। তিন বছর সংসারের সব কিছু দেখেছে। কখনো ভাবিনি এভাবে সব শেষ করে দেবে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পুটিবিলা ও আশপাশের এলাকায় অনেকেই কম মজুরীতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া কিংবা নিয়োগ করা বেআইনী। তবুও বাস্তবতায় দারিদ্র্য ও সস্তা শ্রমের কারণে অনেকেই আইন অমান্য করে তাদের কাজে লাগাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত দুই রোহিঙ্গার মধ্যে একজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে ওই রোহিঙ্গাকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ছবিটি ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ, পলাতকদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধভাবে রোহিঙ্গা নিয়োগ ও আশ্রয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ এখন নিঃস্ব অবস্থায় ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। তার একমাত্র দাবি—চুরি যাওয়া অর্থ ও গরু উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।