টেলিগ্রাফ ডেস্ক | রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত ‘শারমিন একাডেমি’র প্লে-গ্রুপের এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া স্কুল ব্যবস্থাপক (এডমিন) পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর ইসলাম রিমান্ড আবেদন দাখিল করলেও তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে রিমান্ড শুনানি না করে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে মিরপুর এলাকা থেকে পুলিশ পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে। তিনি শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আরেক নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধেও এতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও, তাঁকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে দুই শিক্ষকের হাতে এক শিশুকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম পরা আনুমানিক তিন থেকে চার বছর বয়সী এক শিশুকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ফুটেজে গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিক্ষককে শিশুটিকে টেবিলের সামনে বসিয়ে একাধিকবার চড় মারার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের দৃশ্যও দেখা যায়। পরে এক পুরুষ শিক্ষক স্ট্যাপলার হাতে শিশুটির মুখের দিকে হুমকির ভঙ্গি করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে।পুরো সময়জুড়ে শিশুটির আচরণে তীব্র ভয় ও মানসিক আতঙ্কের প্রকাশ স্পষ্ট ছিল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শাস্তির নামে এ ধরনের সহিংসতা শিশুদের শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তারা মনে করেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সমাজের কোনো ক্ষেত্রেই শারীরিক শাস্তির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং এটি শিশুদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
#আরএ