নওয়াপাড়া পৌর (যশোর) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের অভয়নগরে লাখ টাকা চাঁদাসহ ইমাম হোসেন ওরফে রাব্বি (৩৩) ও আলমগীর হোসেন (৩০) নামে নিষিদ্ধ চরমপন্থী দলের দুই সদস্য আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বিকালে নওয়াপাড়া রেলস্টেশন সংলগ্ন ফেরিঘাট এলাকায় মেসার্স জালাল ট্রেডিং (জেটি) নামে এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদার টাকা নিয়ে বের হওয়ার সময় তাদেরকে আটক করে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, অভয়নগর থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জালাল বাদী হয়ে দুইজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আটক ইমাম হোসেন ওরফে রাব্বি উপজেলার সরখোলা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। অপর আটক আলমগীর হোসেন একই গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে।
মামলার বাদী ভুক্তোভাগী ব্যবসায়ী মো. জালাল জানান, নওয়াপাড়া রেলস্টেশন সংলগ্ন ফেরিঘাট এলাকায় মেসার্স জালাল ট্রেডিং নামে তার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ০১৩১৪-৩৮১১৫৪ নম্বর থেকে এক ব্যক্তি তার মোবাইলে ফোন করে বলেন, ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে, তা না হলে বড় ধরণের ক্ষতি করা হবে। এ সময় ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা পরিচয় দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মো. জালাল আরো বলেন, ‘গত ১০ দিন ধরে চরমপন্থী দলের নেতা পরিচয়ে বার বার তার নিকট দাবিকৃত চাঁদার টাকা পরিশোধের চাপ দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা আলোচনা শেষে এক লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে দুই যুবক তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আসে। এ সময় ওই দুই যুবক সেই চরমপন্থী দলের নেতার প্রতিনিধি পরিচয়ে নগদ এক লাখ টাকা গ্রহণ করে। টাকা নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়ার পর এলাকাবাসী তাদেরকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। সন্ধ্যায় পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ১ টার দিকে আমি নিজে বাদী হয়ে আটক দুই যুবকের নামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের আটকপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘চরমপন্থী দলের পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুইজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী মো. জালাল মামলা করেছেন। আটক দুই যুবককে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।