ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কঠোর কৃচ্ছতা সাধন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন তারেক রহমান। বুধবার রাতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সরকারের সংসদ সদস্যরা সরকারি সুবিধা নিয়ে ‘ট্যাক্স ফ্রি’ গাড়ি আমদানি করবেন না এবং কোনো প্লট সুবিধাও নেবেন না।
হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আইনের শাসনই রাষ্ট্র পরিচালনার ‘শেষ কথা’ হবে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, পূর্ববর্তী ‘ফ্যাসিবাদী’ সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল শাসন কাঠামোর মধ্যে তাঁর সরকার যাত্রা শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ। সব অনাচার ও অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর।” বিশেষ করে আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের অধিক মুনাফার প্রবণতা ত্যাগ করার আহ্বান জানান তিনি।
জনগণকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানানোর আগে নিজের দলের জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকেই গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর যানজট ও জনসংখ্যার চাপ কমাতে সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। সড়ক, নৌ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করে একটি সহজ ও সুলভ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে ‘জনসম্পদ’ হিসেবে বর্ণনা করে তারেক রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে টিকে থাকতে হলে দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই। তরুণদের কারিগরি ও বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল ধর্মের ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “ভোট দিয়েছেন বা দেননি—এই সরকারের প্রতি সবার অধিকার সমান। আমরা বিশ্বাস করি, দলমত ধর্ম দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার।” ১৮ বছরের প্রবাস জীবন শেষে নিজের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বা ‘ভিশন’ বাস্তবায়নে দেশবাসীর অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।