সিলেট সংবাদদাতা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে ওপারে পাড়ি জমানো সিলেটের ছয় তরুণের মরদেহ আজ সকালে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরেছে। কাতার প্রবাসী এই যুবকদের মধ্যে পাঁচজন সড়ক দুর্ঘটনায় এবং একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। আজ মঙ্গলবার সকাল আটটায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার—জিবাল আহমেদ, মুস্তাক আহমেদ আফনান, জসিম উদ্দিন, জুবায়ের আহমেদ ও আবদুল কাদির। গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারান। অন্যদিকে, পৃথক একটি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আশিঘর গ্রামের লিফটন মিয়া। কাতার থেকে মরদেহগুলোর সাথে এসেছেন কাতার খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আবদুল হাসিব চৌধুরী।
বিমানবন্দরে নিহতদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং জামায়াতের স্থানীয় আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাফন ও শেষকৃত্যের খরচ বাবদ নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তীতে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পরিবার আরও তিন লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।
দুপুরের দিকে মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছায়। জোহরের নামাজের পর কানাইঘাটের আকুনি মাদ্রাসা মাঠে পাঁচ প্রবাসীর সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সন্তানের কফিন আঁকড়ে ধরে এক শোকাতুর বাবা বলেন, “সংসারের অভাব দূর করতে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু আজ তাকে কফিনে করে বাড়ি আনতে হলো। এমন দৃশ্য যেন কোনো বাবাকে দেখতে না হয়।”