আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো
রবিবার (২৬ জুলাই), দুপুর ১টা ১৩ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ১৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের স্থাপনা ও অবকাঠামোর কোনো হদিস মিলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে নিলাম বাবদ মাত্র ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকা জমা পড়ায় প্রায় ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সম্পদ যথাযথ নিলাম ছাড়াই অপসারণ বা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নগরের সিলিন্দা মৌজায় ৬৭.৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে রামেবি। জমির পাশাপাশি সেখানে থাকা পাকা, আধাপাকা ভবন, সীমানা প্রাচীর, নলকূপ ও গাছপালার ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৯ কোটি ৬৭ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পরিশোধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অধিগ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগত একটি চক্র এসব স্থাপনা অপসারণে জড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বছরের ৯ জুলাই একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই নিলামে কয়েকটি ভবন বিক্রি করে ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। তবে নথিতে থাকা ১২টি পাকা ভবন, সাতটি আধাপাকা ঘর, তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর ও ১০টি সাবমারসিবল পাম্পসহ অধিকাংশ স্থাপনার কোনো নিলাম বা বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিলাম কার্যক্রমের আড়ালে দ্রুতগতিতে ভবন ভাঙা ও ইট অপসারণ করা হয়েছে। শ্রমিকরা সে সময় জানিয়েছিলেন, তারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এসব কাজ করছেন। এছাড়া ক্যাম্পাসের প্রায় ২৫ হাজার গাছের মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৬৪২টি গাছ নিলামে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলেও অবশিষ্ট ৮ হাজার গাছের কোনো হিসাব নেই।
স্থাপনা অপসারণে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকায় একটি দোতলা ভবন ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা নেই। সেখানে ভূমি ভরাটের কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, কাজ শুরুর আগেই সব স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে নামমাত্র মূল্যে কিছু স্থাপনা দিয়ে বাকিগুলো কোনো নিলাম ছাড়াই লুট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক নজিবুর রহমান বলেন, “আমি আট মাস আগে যোগদান করেছি, আগের বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার জানা নেই। অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে মূল্য দেওয়া হয়, বাস্তবে নিলামে সেই পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায় না। সে কারণেই প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের স্থাপনা ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হতে পারে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।