নজরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
সোমবার (৩ আগস্ট), রাত ৮টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে এক ক্ষুদ্র বেকারি ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে সোহাগ হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সোহাগসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শার্শা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সোহাগ হোসেন, শাহারুল ইসলাম রাজ, মহিউদ্দিন ও মিজানুর রহমান বসতপুর এলাকায় আবুল হোসেনের বেকারিতে প্রবেশ করেন। তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ শুরু করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সোহাগ তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ইউএনওকে দিয়ে বেকারি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
একপর্যায়ে আবুল হোসেন তিন হাজার টাকা সোহাগের হাতে তুলে দেন। এরপরও অভিযুক্তরা বাকি টাকা সন্ধ্যার মধ্যে একটি বিকাশ নম্বরে পাঠানোর হুমকি দিয়ে চলে যান। ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা দরিদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। অনেক কষ্টের পর নিজ উদ্যোগে ছোট পরিসরে বেকারিটি গড়ে তুলেছি। সোহাগের হুমকির ঘটনায় আমি চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
জানা গেছে, সোহাগ হোসেন নিজেকে দৈনিক ভোরের ডাক ও দৈনিক বাংলার ভোর পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। এর আগেও সাতক্ষীরায় চাঁদাবাজির মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। জেল থেকে বের হয়ে আবারও তিনি একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সোহাগ হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি সত্য। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ জানান, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমি ওসিকে জানিয়েছি। ইদানীং শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে একটি চক্র চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা তাদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।