নিউজ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
লিওনেল মেসির বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর বাবা হোর্হে মেসির বড় ভূমিকা ছিল। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৮ বছর বয়সে হোর্হের মৃত্যুর পর নতুন করে সামনে এসেছে ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের গল্প।
১৯৫৮ সালে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্ম নেওয়া হোর্হে দীর্ঘদিন স্টিল কারখানায় সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। ছোটবেলা থেকেই মেসির ফুটবল প্রতিভা তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। মাত্র চার বছর বয়সে ছেলের মধ্যে বিশেষ প্রতিভা দেখতে পাওয়ার কথা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি।
মেসির শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি ধরা পড়ার পর চিকিৎসায় প্রতি মাসে প্রায় ৯০০ ডলার প্রয়োজন হতো। পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়লেও হোর্হে ছেলের চিকিৎসা ও ফুটবল ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বার্সেলোনা মেসির প্রতি আগ্রহ দেখালে পরিবার নিয়ে তিনি স্পেনের কাতালোনিয়ায় চলে যান।
বার্সেলোনায় মেসির ভবিষ্যৎ তখনও নিশ্চিত ছিল না। একপর্যায়ে ক্লাবটির তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচের সঙ্গে আলোচনার পর একটি ন্যাপকিনে মেসির প্রথম চুক্তির কথা লেখা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেসি আর্জেন্টিনার হয়েই খেলতে চেয়েছিলেন। তাঁর সেরা মুহূর্তগুলোর ভিডিও আর্জেন্টিনার যুব দলের কোচের কাছে পাঠানো এবং দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রেও হোর্হে ভূমিকা রাখেন। ২০০৪ সালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অভিষেক হয়।
পরবর্তীতে ছেলের ক্যারিয়ারের প্রতিনিধি হিসেবে চুক্তি ও বাণিজ্যিক বিষয়ও সামলান হোর্হে। মেসিও বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, প্রতিটি ম্যাচের পর বাবার মতামত তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
মেসির ক্যারিয়ার যতই সাফল্যে ভরে উঠেছে, তার শুরুর গল্পে বাবার ত্যাগের বিষয়টি ততই স্পষ্ট হয়েছে। ভোরে কাজে বেরিয়ে রাত করে ফেরা সেই মানুষটিই ছেলের ফুটবলের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নে পরিণত করেছিলেন।