রকি হাসান, স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ২০২৬ | বিকেল ৪টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নে ওয়ারিশান সনদ ও দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা এবং বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শেখ ফরিদ ও রাজিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ ও আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী মো. বাবুল মিয়া। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্বল্পমারিয়া গ্রামে ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ ও দলিলপত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্পমারিয়া মৌজার ১৮ শতাংশ জমি ওয়ারিশসূত্রে পাঁচজন যৌথভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত তথ্য গোপন করে শুক্কুর জানের নামে একটি জাল ওয়ারিশান সনদ তৈরি করা হয়। ওই সনদে তিন ছেলের তথ্য বাদ দিয়ে শুধু দুই কন্যার নাম উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী মো. বাবুল মিয়া বলেন, “মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশান সনদ জাল করে মো. রাজিবের নেতৃত্বে একদল লোক আমার বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, যার ফলে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ইস্যুকৃত ওই ওয়ারিশান সনদে মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ আল হারুনের সিল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়। পরবর্তীতে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নামজারি খতিয়ান করা হয় এবং ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে জমিটি বিক্রির চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজিব বলেন, “ভুলক্রমে ইনডেক্সে ৬৭৮ নম্বরের স্থলে ৬৭৬ নম্বর দাগ বসানো হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের জন্য আমরা মামলা করেছি।” তবে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র দেখাতে পারেননি। অপর অভিযুক্ত শেখ ফরিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৮ নম্বর মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত রেকর্ডে পাঁচজনের নাম রয়েছে। কিন্তু যে সনদটি তৈরি করা হয়েছে, তার সঙ্গে পরিষদের রেকর্ডের কোনো মিল নেই। এটি সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।”
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবুল কালাম ভূইয়া বলেন, “স্বল্পমারিয়া এলাকায় বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”