উপজেলা প্রতিনিধি
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৫২ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগে একরামুল ইসলাম নামের এক শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক একরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, মুখ খুললেই পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতেন ওই শিক্ষক। এ ঘটনায় সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে প্রধান শিক্ষক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
ইউএনও মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওই শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হয়েছে।”
ঘটনার পর ইউএনও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) খুলনা বিভাগীয় পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, “শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম তছির উদ্দীন জানান, গত রোববার শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার দায়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।