নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর), রাত ৮টা ৩২ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে এলজিইডির ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর কাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০.০৬ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটি পুনর্নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিনের কাজ রাতের আঁধারে সম্পন্ন করছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা গোপনে পর্যবেক্ষণ করে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের প্রমাণ পান। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, “আমাদের এই মাইজখাড়ার ব্রিজে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা বরাদ্দ দিল, তা কোথায় গেল? এত বড় দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, শাটার খোলার সুযোগ না থাকায় বাঁশ দিয়ে স্ল্যাব বানিয়ে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, “নির্মাণকাজে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পেয়েছি। তবে এই কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না, কারণ এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।”
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “সরেজমিন পরিদর্শন করে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।