দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মো: আরিফুল ইসলাম,
পাবনা জেলা প্রতিনিধি।
পাবনা জেলার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আটঘরিয়া উপজেলা ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। নিচে এর নামকরণের বিস্তৃত পটভূমি, প্রশাসনিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা এবং প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
নামকরণ ও প্রাচীন পটভূমি
পরবর্তীতে মৃত: লালন সিংহের স্ত্রী মাতঙ্গিনী সিংহ ফাঁড়ির জন্য ১১ বিঘা জমি দান করলে ১৯২৮ সালের ১৬ অক্টোবর আটঘরিয়া পূর্ণাঙ্গ থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আটঘরিয়া এক ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সাক্ষী। ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকেই এখানকার ছাত্র, যুবক ও সাধারণ জনতা মুক্তিযুদ্ধের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে।
ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ও দর্শনীয় স্থান
আটঘরিয়া মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল হলেও এখানে বেশ কিছু প্রাচীন ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে:
১. বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ:
চন্দ্রাবতী নদীর পাড়ে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত প্রধান ঐতিহাসিক স্থান।
২. গোড়রী আদি দুর্গা মন্দির: দেবোত্তর ইউনিয়নের গোড়রী গ্রামে অবস্থিত অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি মন্দির।
৩. মৃধার মসজিদ (শাহী মসজিদ) ও খানবাড়ি মসজিদ: মাজপাড়া গ্রামে অবস্থিত মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীন নিদর্শন।
৪. জমিদার বাড়ি ও কাচারিবাড়ি: চাঁদভা ইউনিয়নের চন্দ্রনাথ সেনের জমিদার বাড়ি, দেবোত্তর জমিদার বাড়ি এবং খিদিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রানি ভবানীর কাচারিবাড়ি এখানকার সোনালি অতীতের সাক্ষী বহন করে।
১৯৭১ সালের ৬ই নভেম্বর পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রামে চন্দ্রাবতী নদীর তীরে পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যে রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাঁর বীর শহীদদের তালিকা এবং এই ঐতিহাসিক স্থানসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার বিস্তারিত যাতায়াত ব্যবস্থা নিচে দেওয়া হলো:
বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধের বীর শহীদদের তালিকা
বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাপ্টেন কর্নেল তাহেরসহ প্রায় ৩০ জন সেনা নিহত হয় । তবে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সম্মুখ সমরে বীরত্বের সাথে লড়াই করে ঘটনাস্থলেই ১০ জন বীর মুক্তিসেনা শাহাদাত বরণ করেন। তাঁদের নাম নিম্নরূপ:
১. শহীদ আবুল কাশেম।
২. শহীদ আব্দুল খালেক।
৩. শহীদ ইউনুছ আলী।
৪. শহীদ নায়েব আলী।
৫. শহীদ আব্দুর রশিদ।
৬. শহীদ আব্দুল মালেক।
৭. শহীদ শহিদুল ইসলাম।
৮. শহীদ আব্দুস সাত্তার।
৯. শহীদ মনছুর আলী।
১০. শহীদ আব্দুর রাজ্জাক।
(এছাড়াও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ও ওই অঞ্চলের আশপাশে আরও বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হন)।
দর্শনীয় স্থানসমূহের যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকা কিংবা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আটঘরিয়া উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে হলে প্রথমে আপনাকে পাবনা জেলা শহরে আসতে হবে।
১. বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ
২. চন্দ্রনাথ সেনের জমিদার বাড়ি
৩. মৃধার মসজিদ (শাহী মসজিদ)