1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
আটঘরিয়া উপজেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস - bdtelegraph24.com
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি আটঘরিয়া উপজেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আরও সময় চায় বিএনপি ভারতের মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা: নিহত ৫, পুড়ল ৩০ বাড়ি-দোকান দিল্লিতে বিক্ষোভ: ৩ হাজার নেতাকর্মী আটক, অচল রাজধানী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২ কুনিয়া মধ্যপাড়া মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট: চ্যাম্পিয়ন আলোর দিশারী স্পোর্টিং ক্লাব মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা ডেটাডেভেলপ প্রাইজ ২০২৬: চ্যাম্পিয়ন রাঙামাটির হোসাইন, যাবেন হংকং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক

আটঘরিয়া উপজেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১ জন খবরটি পড়েছেন

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

মো: আরিফুল ইসলাম,
পাবনা জেলা প্রতিনিধি।

পাবনা জেলার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আটঘরিয়া উপজেলা ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। নিচে এর নামকরণের বিস্তৃত পটভূমি, প্রশাসনিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা এবং প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

নামকরণ ও প্রাচীন পটভূমি

  • আট ঘর বসতির জনশ্রুতি:
    আটঘরিয়া নামকরণের সবচেয়ে প্রচলিত এবং শক্তিশালী ইতিহাস হলো প্রাচীন আমলে এই জনপদে সর্ব প্রথম আটজন ব্যক্তি বা আটটি পরিবার এসে তাদের বসতবাড়ি বা ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেছিলেন। এই ‘আটটি ঘর’ বা আট ঘর বসতিকে কেন্দ্র করেই এলাকাটি লোকমুখে ‘আটঘরিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
  • প্রশাসনিক উৎপত্তি:
    অতীতে এই অঞ্চলে চোর-ডাকাতের চরম উপদ্রব ছিল। বিশেষ করে চলনবিল এলাকার ডাকাতদল রত্নাই ও চন্দ্রাবতী নদী ব্যবহার করে এ অঞ্চলে এসে জান-মালের ক্ষতি করত। এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ আমলে প্রথমে এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়।

পরবর্তীতে মৃত: লালন সিংহের স্ত্রী মাতঙ্গিনী সিংহ ফাঁড়ির জন্য ১১ বিঘা জমি দান করলে ১৯২৮ সালের ১৬ অক্টোবর আটঘরিয়া পূর্ণাঙ্গ থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আটঘরিয়া এক ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সাক্ষী। ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকেই এখানকার ছাত্র, যুবক ও সাধারণ জনতা মুক্তিযুদ্ধের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে।

  • বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধ (৬ নভেম্বর ১৯৭১): আটঘরিয়ার মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রামে চন্দ্রাবতী নদীর তীরে পাবনা জেলার সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ভারত থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল এই অঞ্চলে অবস্থান করছিল। ৬ই নভেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ বাধে।
  • ক্ষয়ক্ষতি ও সাহসিকতা: এই সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন কর্নেল তাহেরসহ প্রায় ১৩ জন সেনা নিহত হয়। তবে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেন ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৭ জন নিরীহ গ্রামবাসী শাহাদাত বরণ করেন। এই ঐতিহাসিক যুদ্ধকে স্মরণীয় করে রাখতে সেখানে বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ও দর্শনীয় স্থান

আটঘরিয়া মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল হলেও এখানে বেশ কিছু প্রাচীন ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে:

১. বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ:
চন্দ্রাবতী নদীর পাড়ে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত প্রধান ঐতিহাসিক স্থান।

২. গোড়রী আদি দুর্গা মন্দির: দেবোত্তর ইউনিয়নের গোড়রী গ্রামে অবস্থিত অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি মন্দির।

৩. মৃধার মসজিদ (শাহী মসজিদ) ও খানবাড়ি মসজিদ: মাজপাড়া গ্রামে অবস্থিত মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীন নিদর্শন।

৪. জমিদার বাড়ি ও কাচারিবাড়ি: চাঁদভা ইউনিয়নের চন্দ্রনাথ সেনের জমিদার বাড়ি, দেবোত্তর জমিদার বাড়ি এবং খিদিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রানি ভবানীর কাচারিবাড়ি এখানকার সোনালি অতীতের সাক্ষী বহন করে।

১৯৭১ সালের ৬ই নভেম্বর পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রামে চন্দ্রাবতী নদীর তীরে পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যে রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাঁর বীর শহীদদের তালিকা এবং এই ঐতিহাসিক স্থানসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার বিস্তারিত যাতায়াত ব্যবস্থা নিচে দেওয়া হলো:

বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধের বীর শহীদদের তালিকা

বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাপ্টেন কর্নেল তাহেরসহ প্রায় ৩০ জন সেনা নিহত হয় । তবে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সম্মুখ সমরে বীরত্বের সাথে লড়াই করে ঘটনাস্থলেই ১০ জন বীর মুক্তিসেনা শাহাদাত বরণ করেন। তাঁদের নাম নিম্নরূপ:
১. শহীদ আবুল কাশেম।
২. শহীদ আব্দুল খালেক।
৩. শহীদ ইউনুছ আলী।
৪. শহীদ নায়েব আলী।
৫. শহীদ আব্দুর রশিদ।
৬. শহীদ আব্দুল মালেক।
৭. শহীদ শহিদুল ইসলাম।
৮. শহীদ আব্দুস সাত্তার।
৯. শহীদ মনছুর আলী।
১০. শহীদ আব্দুর রাজ্জাক।
(এছাড়াও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ও ওই অঞ্চলের আশপাশে আরও বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হন)।

দর্শনীয় স্থানসমূহের যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা কিংবা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আটঘরিয়া উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে হলে প্রথমে আপনাকে পাবনা জেলা শহরে আসতে হবে।

১. বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ

  • অবস্থান: মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রাম।
  • কীভাবে যাবেন: পাবনা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল অথবা আব্দুল হামিদ রোড থেকে প্রথমে বাস, সিএনজি বা অটোরিকশা যোগে দেবোত্তর বাজারে আসতে হবে (দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার)। এরপর দেবোত্তর বাজার থেকে স্থানীয় ইঞ্জিন চালিত ভ্যান অথবা ইজিবাইক নিয়ে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধে পৌঁছানো যায়।

২. চন্দ্রনাথ সেনের জমিদার বাড়ি

  • অবস্থান: চাঁদভা ইউনিয়ন।
  • কীভাবে যাবেন: পাবনা জেলা শহর থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে চড়ে প্রথমে আসতে হবে আটঘরিয়া বাজারে। আটঘরিয়া বাজার থেকে সরাসরি ইজিবাইক বা ভ্যান যোগে সোজা চাঁদভা বাজারে নামতে হবে। চাঁদভা বাজারের সাথেই এই প্রাচীন জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।

৩. মৃধার মসজিদ (শাহী মসজিদ)

  • অবস্থান: মাজপাড়া গ্রাম।
  • কীভাবে যাবেন: পাবনা শহর থেকে আটঘরিয়াগামী সিএনজি বা বাসে করে টেবুনিয়া হয়ে মাজপাড়া ইউনিয়নে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে লোকাল ভ্যান বা রিকশায় সহজেই এই ঐতিহাসিক প্রাচীন মসজিদে যাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar