নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর), ২০২৬ | সন্ধ্যা ৭:১৯
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ব্যর্থতাকে লজ্জার কিছু না ভেবে বরং চেষ্টা ও সাহসের প্রতীক হিসেবে উদযাপনের লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস। ২০১০ সালে ফিনল্যান্ডের আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে দিবসটির যাত্রা শুরু হয়। ব্যর্থতার ভয় কাটিয়ে নতুন উদ্যোগ গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করাই এই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
ফিনল্যান্ডের আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য করেন যে, ব্যর্থতার ভয়ে অনেকেই নতুন ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করতে সাহস পাচ্ছেন না। এই ভয় দূর করতে তারা এমন একটি দিন প্রস্তাব করেন, যেখানে ব্যর্থতাকে স্বীকার করে তা থেকে শেখার বার্তা দেওয়া হবে। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ দ্রুতই ফিনল্যান্ডের গণ্ডি পেরিয়ে ২০১২ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হতে শুরু করে।
ব্যর্থতাকে সাধারণত নেতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও দিবসটি আমাদের শেখায় যে, সফলতা অর্জনের পথে ব্যর্থতা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সফল ব্যক্তিদের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের সাফল্যের পেছনেও রয়েছে অসংখ্য না-পারার গল্প। ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াই মূলত ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের চাবিকাঠি।
দিবসটি উদযাপনের অন্যতম উপায় হলো ব্যর্থতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। সহকর্মী বা বন্ধুদের সঙ্গে নিজেদের ভুলের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে তা অন্যদের সাহস জোগায়। অনেকে এই দিনে ‘ফেল ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করে নিজেদের বড় ভুল বা ব্যর্থতার গল্প শেয়ার করেন। এছাড়া কিছু মানুষ ওয়ার্কশপ বা ‘ফ্লপ ফিল্ম নাইট’-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে ব্যর্থ সিনেমাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ব্যর্থতাকে সহজভাবে গ্রহণ করার মাধ্যমে মানুষ ভুলের প্রতি ভয় কাটিয়ে নতুন কিছু শিখতে উদ্বুদ্ধ হয়। সফল ব্যক্তিরা নিজেদের ব্যর্থতার গল্প শেয়ার করার মাধ্যমে অন্যদের বোঝাতে চান যে, ব্যর্থতা জীবনেরই একটি অংশ এবং এর মাধ্যমে হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই আসল সার্থকতা।